Saturday, January 31, 2015

একদা এক মেয়ে টিউশনির পড়ানোর অভিজ্ঞতা।। :D :P


 এই মাসের শেষের দিকে একটা টিউশনি পাইলাম ক্লাস এইটের স্টুডেন্ট। :D

স্টুডেন্ট মেয়ে, আর বেতন ৭ হাজার, না যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। :P :D

যে সারে টিউশনি ঠিক করে দিল, সেই সার আগে ভাগে সতর্ক করে দিল '' ঐ পড়াবি ভালো কথা, কিন্তু দেখিস মেয়ে কিন্তু সুবিধার না। '' মাথা নাড়িয়ে সুবোধ বালকের মত জি সার বলে সেইদিন ঐখান থেকে বিদায় নিয়েছিলাম।

যাই হোক ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে গেলাম প্রথম দিন।। :D

টিউশনির প্রথম দিনঃ

এর আগে গার্জিয়ানের সাথে কথা হলেও স্টুডেন্টের সাথে কথা হয়নি। প্রথম দেখাতেই স্টুডেন্টকে পছন্দ হয়ে গেল। দেখেই মাথায় একটা কথা আসল '' এই মেয়ে এতো জোস কেন ''

প্রথম কর্তাবার্তা শুরু করলাম এই বলেঃ

আমিঃ তোমার নাম কী?
স্টুডেন্টঃ আম্মু বলে নাই? :o
আমিঃ না তো? O.o
স্টুডেন্টঃ ও, আমার নাম নওরিন। :)
আমিঃ আচ্ছা, তো এইবার জেএসসি দিবা তাহলে?
স্টুডেন্টঃ এইটে যেহেতু উঠছি, দিব তো অবশ্যই। সার আপনার নাম কি?
আমিঃ (একটু ভ্যাবাছ্যখা খেয়ে) আমার নাম সাজিদ।
স্টুডেন্টঃ সার একটা কথা বলব মাইন্ড না করলে? :D
আমিঃ হুম বলো বলো, ফ্রীলি বলো কোন সমস্যা নেই। :)
স্টুডেন্টঃ সার এখন তো তেমন শীত পরছে না, আপনি জ্যাকেট পড়ে আসলেন কেন?? :D
আমিঃ (পুরো নার্ভাস হয়ে গেলাম, একটু গম্ভির হয়ে) আচ্ছা এইসব পরে হবে এইবার চলো কি পড়া আছে দেখি।।
স্টুডেন্টঃ (মেয়ে মুচকি হেসে) ওকে সার। :)

সেইদিন আল্লাহর রহমতে আর কোন বেকা তেরা প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয় নাই, কিন্তু একটা জিনিস বুঝে গেলাম মেয়েটা সত্যি একটা জিনিস। :(

২য় দিনঃ

আমিঃ কি অবস্তা?
স্টুডেন্টঃ ভালো, সার আজকেইও জ্যাকেট। :o
আমিঃ আরেহ পিকুলিয়ার, আমি জ্যাকেট পরলে তোমার সমস্যা কি? :/
স্টুডেন্টঃ না সার, আপনি এই গরমেও সারাদিন দেখি জ্যাকেট পড়ে থাকেন কিভাবে?? :/
আমিঃ এখন মাঘ মাস, আর মাঘ মাসে শীত থাকে, আর আমার যাওয়ার সময় শীত লাগে বলেই জ্যাকেট পরি। তোমার ঐ কথা চিন্তা করতে হবে না। এখন পড়া নাও। :/
স্টুডেন্টঃ ওকে। :D

এরপর পড়াচ্ছিলাম ঠিকভাবেই। ৫-১০ মিনিট পরে হটাৎ করে মেয়েটা বলে উঠেঃ

স্টুডেন্টঃ সার, দরজাটা বন্ধ করে দিয়?? ;)
আমিঃ এ্যা? না না কোন দরকার নেই, যেমন আছে তেমনই থাক, দরজা লাগানো লাগবে না। :o
স্টুডেন্টঃ সার, দরজা খোলা থাকাটা কিরকম অড না? :/
আমিঃ কোন অড না, একটা মেয়ে পড়ানোর সময় দরজা বন্ধ করাটা অড, বুঝছো??
স্টুডেন্টঃ আম্মু কিছু মনে করবে না তো। :P
আমিঃ তারপরো কোন দরকার নেই। :/
স্টুডেন্টঃ ওকে সার। :D :P

ওইদিনও আর কোন কাহিনী করে নাই, যদিও পড়ার মাঝখানে মাঝখানে মুচকি হাঁসি অব্যাহত ছিল। :/ :(

কি বুঝে এই মেয়ে এতো হাসে আমি বুঝি না।।

৩য় দিনঃ

আজকে আর পড়া তেমন পড়াতেই পারিনি, মেয়ের পড়ার চেয়ে বেশি ইন্টারেস্ট অন্য দিকে। ;) :P

আজকে হটাৎ করে বলে উঠলোঃ

স্টুডেন্টঃ সার আপনার গার্লফ্রেন্ড আছে?? :P :D
আমিঃ (থতমত খেয়ে) না তো? আর এইসব কি, তোমাকে আসছি পড়াতে, তুমি জিজ্ঞাস করো, আমার গার্লফ্রেন্ড আছে নাকি?? ঐইগুলাতো ভালো না। :/
স্টুডেন্টঃ সার আপনি রিয়েক্ট করছেন কেন? এমনিতেই জিজ্ঞাস করলাম, এতো বছর পড়ালেখা করলেন গার্লফ্রেন্ড তো নিশ্চই আছে, আর আমি তো বাচ্চা না যে বলা যাবে না। :D
আমিঃ তুমি সব কিছু একটু বেশি বুঝো। :/
স্টুডেন্টঃ সার আপনি না বলতে চাইলে থাক, কিন্তু বেশি বুঝো মানে কি? :/
আমিঃ আচ্ছা যাও, নেই। :/
স্টুডেন্টঃ আমি জানতাম থাকবে না। :D :P
আমিঃ মানে?? :/
স্টুডেন্টঃ আপনি যে রকম করেন, আপনার গার্লফ্রেন্ড থাকবে কেমনে?? :v
আমিঃ তুমি এই পিচ্চি মেয়ে হয়ে এতো আজাইরা কথা বলো কেন??
স্টুডেন্টঃ সার, আমার বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা জিজ্ঞাস করবেন না?? :D :P
আমিঃ আমার এইসবে কোন ইন্টারেস্ট নেই। তুমি পড়াটা পড়বা প্লিয। :/
স্টুডেন্টঃ সার আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আমার বয়ফ্রেন্ড আছে কিনা তা জানতে আপনার অনেক ইন্ট্রেস্ট। :P :D
আমিঃ নওরিন তুমি পড়বা, না আমি চলে যাব। :/
স্টুডেন্টঃ আচ্ছা আচ্ছা সার পড়তেছি। :D

শেষ পর্যন্ত আজকে এই মেয়েক পড়িয়ে কেমনে বের হলাম খোদা জানে। এর মাঝখানে আরো বহুত প্রশ্ন করছিল এই নিয়ে, তা আর এইখানে বললাম
না।। বললে মান ইজ্জত যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।। :/

মেয়েটা যে সাংঘাতিক জিনিস, ১ মাস পড়ালে কাহিনী হয়ে যাবে শিউর, এরই মধ্যে আজকে আবার ২ বার ফোনও দিয়ে দিয়েছে পড়া না বোঝার অযুহাতে। :/

এই হচ্ছে আমার মেয়ে পড়ানোর টিউশনি এক্সপেরিয়েনস, ইদানিংকার মেয়েরা যে এতো বদ, তা এই মেয়েকে না পড়ালে সত্যি বুঝতাম না।। :(

আচ্ছা আমার ব্লগ রিডারদের মধ্যে এরকম সাংঘাতিক মেয়ে পড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে এরকম কেউ আছেন নাকি?? থাকলে কমেন্টে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করিয়েন।। :D

0 comments:

Post a Comment