Thursday, August 14, 2014

একাত্তরের অক্ষয় ইতিহাস : বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম রঞ্জুর স্মৃতিতে একাত্তর:(২)

প্রথম পর্বঃ একাত্তরের অক্ষয় ইতিহাস: বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম রঞ্জুর স্মৃতিতে একাত্তর: (১)

  

… ডুমুরিয়া অঞ্চলের একটি অপারেশনে আমরা পাকিস্তানি আর রাজাকারদের পুরো ১১ দিন ১১ রাত ঘেরাও করে রাখি। ২ঘন্টা করে পালাক্রমে আমরা পাহারা দিতাম। আমাদের তো রসদের চিন্তা নেই – স্থানীয় মানুষজনই আমাদের খাবার দিয়ে যায়। সেই সাথে হ্যাভারস্যাকে রুটিও আছে। কিন্তু পাকিস্তানিরা যখন দেখে যে আর ২/১ দিনের বেশি রসদ তাদের নেই – তখন তিনশ মিলিশিয়া নিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করে। এই অপারেশনগুলোতে প্রথমে একটানা দুই ঘন্টা ফায়ার চলত। তারপর ওরা ফায়ার করলে আমরাও ফায়ার করি, আমরা ফায়ার করলে ওরা ফায়ার করে এরকম হত। গ্রেনেডের স্প্লিন্ট এর দাগ এখনো আছে। একবার অপারেশনে এক বড়ভাই জানালা দিয়ে ফায়ার করছেন।  তার পিঠে গুলি লেগে সেখানে আটকে আছে – তিনি ফায়ার করছেন। আমাকে বললেন কাচি দিয়ে কেটে গুলি বের করতে। আমি বললাম, এই জং ধরা কাঁচি দিয়ে গুলি বের করলে আবার টিটেনাস হয় যদি। অবশেষে একজন হাত ধুয়ে টেনে সেই গুলি বের করল। 

বড় বড় অপারেশনে আগের রাতে আমাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হত। অনেক প্লাটুন থাকত সেখানে।  এয়ার ফোর্সের কমান্ডিং অফিসাররাও থাকতেন। চার দিনের খাবার দেওয়া হত। চার দিনের খাবার মানে ষোলটা রুটি। যার যার মত পজিশন নিয়ে আমরা সিগনালের অপেক্ষা করতাম। আলোর সংকেতের সাথে সাথে ২/৩ ঘন্টা একটানা ফায়ার চলত। তারপর একবার আমরা ফায়ার করলে ওরা ফায়ার করত- ওরা ফায়ার করলে আমরা ফায়ার করতাম এভাবে চলত। আমাদের তো রশদের অভাব হত না,  কিন্তু পাকিস্তানিদের জন্য সব রাস্তা ছিল বন্ধ। পশ্চিম দিকে ছিল নদী খাল বিল। সেদিকে ওদের কোনো সাহায্যের আশা ছিল না। পূর্ব, উত্তর কিংবা দক্ষিণ দিকে ওদের যেতে হত। আর আমরা যদি লড়াই করতে করতে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও পরতাম – সাধারণ মানুষ আমাদের সাহায্য করত। কিন্তু পাকিস্তানিরা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পরলে সাধারণ মানুষের গণপিটুনি খেয়েই মরত। 

খুলনা আর পূর্ব দিক থেকে যশোর – দুটি রাস্তা। এর মধ্যে আরো কিছু Strategy কাজে লাগানো হত। একটি মাইন, তারপর সেকেন্ডারি মাইন পোঁতা হত পাকিস্তানি কনভয়ের জন্য। একে টাইমিং বলা হত। যেবার ১১/১২ দিন ধরে আমরা ওদের ঘিরে রেখেছিলাম তখন দুই পক্ষের মধ্যেই একটা মানসিক চাপ কাজ করছিল। আমাদের ক্ষেত্রে – এরা কতদিন survive করবে আর ওদের ক্ষেত্রে- এরা কতদিন থাকবে।  পাকিস্তানিরা সারেন্ডার করার পর যাদের মাইনাস করা দরকার তাদের মাইনাস করে ফেলা হত।  বাকিদের আমাদের ক্যাম্পে এনে বুঝিয়ে আমাদের পক্ষে আনার চেষ্টা করা হত।  কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ছেড়ে দেয়ার পর এরা আবার রাজাকারিতে ফিরে যেত।  এদের রক্তের মধ্যেই যেন রাজাকারি মিশে গেছে। দ্বিতীয় বার এরকম কাউকে ধরতে পারলে আর কোনো সুযোগ দেওয়া নয়- সরাসরি মাইনাস করে ফেলা হত। 

এর মধ্যে অনেক বড় একটা অঘটন ঘটল শ্যামনগর অপারেশনের সময়। তখন আমার বয়স কম। তবে একশন ভাল পারি। তাই সিনিয়রদের নিয়ে ছিল আমার সেকশন।  আমার ইউনিটের গ্রুপ ছিল সেটি। সাধারণত একটা মেশিনগানকে সামলাতে তিনটা LMG এর প্রয়োজন হয়। যুদ্ধ চলাকালীন সময় আমার পাশে থাকা পঞ্চাদা আমার কাছে একটা রুটি চাইলেন। আর একটু পরেই ভোর হবে – কিন্তু পঞ্চাদা বলতে লাগলেন – ‘ রঞ্জু, আমি মইরা যাব। এখনই তোর হ্যাভারস্যাক থেকে রুটি দে’।  আমি ফায়ারিং বন্ধ করে পঞ্চাদাকে রুটি দিলাম। ফায়ারিং বন্ধ হয়ার কারণে লাইন অফ ভেঙে গেল। গুলি লেগে পঞ্চাদা মারা গেলেন। একদম পাশ থেকে এভাবে কারো পরে যাওয়ার স্মৃতি এই প্রথম। সেদিন সুন্দরবনে একটু দূরে আমরা ক্যাম্প করলাম। তিন দিক থেকে পাকিস্তানি মিলিটারি ঘিরে ফেলল। ৪০/৫০ জনের একটা প্লাটুনের ১৭ জন সেখানেই শহীদ হলেন। নদী পার হয়ে বাকিরা বেস ক্যাম্পে চলে আসলাম।  

নতুন লোকাল ছেলেদের তখন বেসিক ট্রেনিং দিয়ে আমাদের সাথে নিয়ে নেয়া হত। ওদের গ্রেনেড, মাইন, ক্রলিং, কিভাবে সেল্টার দিতে হয় এসব শেখানো হত।  এই ধারাবাহিকতায় আরেকটা দিনের কথা বলি। আমরা তখন খুলনা শহর থেকে ৫/৭ মাইল দূরে। খুলনা থেকে পাকিস্তানিদের একটা ট্রুপ যশোরের দিকে যাচ্ছে। আমরা স্থানীয় লোকদের দিয়ে তখন রাস্তার দুই পাশে মাটি খূঁড়িয়ে রাখতাম। পাকিস্তানিদের ট্রাক টা তাই মেইন রোডে উঠতে পারছিল না। পিছাতে গিয়ে একদিকে আমাদের গ্রুপ – একদিকে মংলার দিক থেকে আসা শিরোমণি গ্রুপের মাঝে পরে ওরা পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।স্বাধীনতার পর আজো খুলনায় সেই বাড়িগুলোতে গুলির চিহ্ন আছে। ছয়টা ট্রাকে সেদিন ৯০/১০০ জন পাকসেনা ছিল। হয়ত এটি পাকিস্তানিদের কোনো সাপ্লাই ইউনিট ছিল। আমরা হলাম পোড় খাওয়া যোদ্ধা – আমাদের সাথে এরা পারবে কেন। 

এরপর ১৬ ডিসেম্বর তো দেশ স্বাধীন হয়ে গেল। ১৭ ডিসেম্বর আমরা চলে আসলাম খুলনা শহরে। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলাম। বঙ্গবন্ধু চলে আসলেন।এপ্রিল মাসের দিকে আমরা অস্ত্র জমা দিলাম। মাঝখানে পড়াশুনায় যে ভাল ছিলাম,  সেটা নষ্ট হয়ে গেল। এস এস সিতে ৩০০ তে কাটায় কাটায় ১৮০ পেয়ে প্রথম বিভাগ পেলাম। লেটার পেলাম শুধু একটা সাব্জেক্ট এ – ম্যাথ। জীবন চলতে লাগল তার নিজের গতিতে..। 
যতদিন ইন্ডিয়ার বেস ক্যাম্পে থেকে আমরা যুদ্ধ করতে যেতাম ততদিন কেউ মারা গেলে আমরা বারাসাত অার্মি ক্যাম্প এই নিয়ে আসতাম। সেখানে একজন কম্পাউন্ডার ছিলেন – যে কোন অসুখে একটা মিক্সচার খাইয়ে দিতেন – আসলেও অসুখ ভাল হয়ে যেত। আর যখন বাংলাদেশে থেকে যুদ্ধ করতাম তখন কেউ মারা গেলে কিছু সময় যেত আবেগে – তারপর মাটিচাপা দেয়া হত কিংবা নদীতে মারা গেলে নদীতেই সমাহিত করা হত। কেউ হয়ত নামকাওয়াস্তে দোয়া দরুদ পড়ত । মৃত্যুটা তখন ছিল স্বাভাবিক ও আকস্মিক।

ইন্ডিয়ান অংশ থেকে সাইড করে আমাদের একবার ক্যাম্প করা হয়েছিল। সেই ক্যাম্পে পাকিস্তানিরা আক্রমন করল। প্রথমে সেন্ট্রিদের উপর আক্রমন করা হল। তারপর সবাই দেয়াল পার হয়ে অপর পাশে চলে যেতে থাকলাম। দেয়াল বেয়ে উঠতে কিংবা রিফ্লেক্স একশনের জন্য কারো কারো কিছু সময় লাগে। দুলালদা ছিলেন সেরকম। তার গুলি লাগল। তারপর তাকে কিছুদূর ঘাড়ে, কিছুদূর গরুর গাড়ি, কিছুদূর নৌকায় নিয়ে আমরা পৌছালাম বারাসাত। সেখানে তখন ছিলেন কর্ণেল ওসমানী। বারাসাত হাসপাতাল এ রোগীর attendent দের জন্য কোন খাওয়ার ব্যবস্থা তখন ছিল না। কর্নেল ওসমানী আমাকে ১০ টাকা দিলেন খাওয়ার জন্য। সেই একবারই তার সাথে আমার দেখা। 

পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে যে বাঙালি অফিসাররা বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন যেমন ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট – তারা কিন্তু সবসি জানতেন যে আবার যদি কখনো পাকিস্তান অার্মির হাতে পরতে হয় তো সরাসরি ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে যাবে। তা জেনেও তারা যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীতে হয় তুমি বিদ্রোহ করবে নয় থাকবে। শুনেছি, জিয়াউর রহমান নাকি অনেক পরে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এ কথাটা আমি বিশ্বাস করি না। কারণ ২৭ মার্চ এই তো তার কন্ঠ আমরা শুনেছিলাম। আর এজন্যেই অনেক মুক্তিযোদ্ধা বি এন পি তে যোগ দেন। কারন মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বঙ্গবন্ধুকে কাছে পান নি – পেয়েছেন তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলীদেরকে আর এই মেজর দেরকে। মেজর জলিল, মেজর জিয়াদেরকে। একাত্তরের এই জিয়া আর পঁচাত্তর পরবর্তী জিয়ার মধ্যে তাই আমরা কোন মিল খুঁজে পাইনা। মেজর খালেদ মোশাররফ নেই। কর্নেল তাহের – জাসদ বিদ্রোহ করে ক্ষমতায় আনলেন জিয়াকে। জিয়া প্রথমে শেষ করলেন তাহেরকে, তারপর জাসদকে। এই আচরণের সত্যি কোন ব্যাখ্যা নেই। যেমনিভাবে ব্যাখ্যা নেই আওয়ামী লীগের বাকশালীকরণের। 

একটা স্বাধীন দেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের অনেক আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ছিল। আমাদের ও ছিল। সেসব স্বপ্ন যে সত্যি হবার নয় তা বোঝার মত চিন্তাশক্তি বয়স কিছুই আমাদের তখন হয়নি। বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের চাহিদা যতটা পূরণ করার চেষ্টা করতেন তাও পারতেন না। যার হাত দিয়ে সাহায্যটুকু পাঠাতেন সেই তা আত্মসাৎ করে নিত। বঙ্গবন্ধুর মত ব্যাক্তিত্বের একজন মানুষ পারতেন জাতীয় অভিভাবক হয়ে থাকতে। পৃথিবীর কোনো দেশ স্বাধীন হবার পর এত তাড়াতাড়ি মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র জমা দেয়না। যারা দেশ স্বাধীন করে, তারাই দেশটা চালায়। কিন্তু আমাদের বাংলাদেশে তা হয়নি। তাজউদ্দীন আহমেদ সম্পর্কে ভুল ধারনা দিয়ে বঙ্গবন্ধু  থেকে আলাদা করা হয়েছে তাকে। সেই তাজউদ্দীন আহমেদ- যাকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর সাথে মিটিং করতে ভয় পেত ভুট্টো। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত এসেছিল ৭৪ এর দুর্ভিক্ষ।  আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বলে কিছু ছিলনা। রাজাকাররা ফিল্ডে ছিল না তখন – ছিল ফারুক রশীদের মত স্বাধীনতার বিশ দিন  আগে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়া  লোকেরা।  আর তাদের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছিল তারা কখনোই মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। এমনটা  না হলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়ত আজ ভিন্ন রকম হতে পারত। 

সাত জন বীরশ্রেষ্ঠ।  আমার পঞ্চাদা নাই। ছয় লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে মাত্র ২০০ জনকে খেতাব দেয়া হয়েছে। এমনও মুক্তিযোদ্ধা আছেন যারা পাকিস্তানি বাহিনীর বাঙ্কারে গিয়ে পাকিস্তানি মেরে জীবিত ফিরে এসেছেন। তাদের কথা নাই। বীরশ্রেষ্ঠ,  বীর উত্তম, বীর প্রতীক মিলিয়ে মোট মুক্তিযোদ্ধার এক শতাংশ ও নয়। তার মধ্যে civilian দের সং্খ্যা খুবই কম। ছাত্র – কৃষক – শ্রমিক – কখনো মাঠে খেলতে না নামা ভদ্র ছেলেটার হাতে অস্ত্র,  ফর্সা রং ধীরে ধীরে তামাটে হয়ে যাওয়া- হাত পায়ে rash, মাটির ভেতরে নিরাপদ আশ্রয়…। 

ছয় লাখ নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা। সনদপত্র প্রদানকারীর সং্খ্যা আর ভারতে ট্রেনিং নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সং্খ্যার লিস্ট আছে। সেই লিস্ট নিয়ে গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার।  সেই গেজেটের ৪০ নাম্বারে আমার নাম। ২০০৭ সাল থেকে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা দেয়া হয়। ৫০০ /= থেকে বেড়ে এখন তা ৩০০০/= হয়েছে।  এই টাকাটার পরিমাণে আমার কিছু যায় আসে না – কিন্তু শতকরা এক বা দুই ভাগ মুক্তিযোদ্ধা আমার মত ভাগ্যবান।  আমার কমান্ডার দুধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা মানিক ভাইয়ের স্ত্রী সন্তান তাকে ছেড়ে গেছে দারিদ্র্যের জন্য। প্রথম মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিয়ে রেস্টুরেন্টে একসাথে রুপচাঁদা মাছ খেয়েছিলাম আমরা। বিল এসেছিল ৮০০/=।  মানিক ভাই বলেছিলেন – তুমি জানো ৮০০ টাকায় আমার কয়দিন চলে?

বর্তমান সময়ে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যুদ্ধাপরাধীর বিচার খুব বেশিদূর আর আগাবে না। যতটুকু হয়েছে – গণজাগরণ মঞ্চের উত্তাল সময়ে। তখন এত বড় একটা গণ আন্দোলন – তারুণ্যের দাবি – সাধারণ মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন এই আন্দোলনের প্রতি সব মিলিয়ে ব্যাপারটা সফল করেছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের নিজেরই এখন শ্যাম রাখি না কূল রাখি অবস্থা।  সে এখন চাইবে না কোনো পক্ষকে রাগাতে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় – আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় থাকে তখন ত্যাগী নেতাদের সে দূরে সরিয়ে দেয়। চাটুকারেরা তখন সব লুটে খায়। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে যায় তখন এই চাটুকারেরা দল ছেড়ে সরে যায়, রং বদলায়। ত্যাগী কর্মীরা তখন দলটাকে বাঁচিয়ে রাখে। আওয়ামী লীগ জিতলে শুধু আওয়ামী লীগ ই জেতে,  কিন্তু হারলে সারা দেশকে সাথে নিয়ে হারে- সময়ের সবচেয়ে সত্যি কথা এই বাক্যটি। 

বঙ্গবন্ধু একবার প্রশ্ন করেছিলেন – “৮ কোটি মানুষের ৮ কোটি কম্বল – আমার কম্বলটা কোথায়? ” বুঝতে পেরেছিলেন তিনি এই দুর্নীতির স্বরুপটা। অনেক আক্ষেপ নিয়েই তাই বলেছিলেন  - ‘সব মানুষ পায় হীরার খনি, আমি পাইসি চোরের খনি….।’

 (সমাপ্ত)

মুক্তিযোদ্ধাঃ সাইফ রাজু
সাক্ষাতকারঃ পারভেজ এম রবিন, এবং ফাহিম
লেখাঃ জান্নাতুল ফেরদৌস পুণ্যা
সংগ্রহঃ আবরার হামিম সাজিদ

0 comments:

Post a Comment