Thursday, August 14, 2014

সুইসাইড করার পরের আত্মকথা।




এখন রাত ১১টা

সুইসাইড করছি সেই ৩ ঘন্টা আগেই, কেউ এখন পর্যন্ত খোঁজও নিল না, সেই কতক্ষন থেকে ফ্যানের উপর ঝুলে আছি, আর কতক্ষন ঝুলে থাকব ধেত।
ধুর আমিও তো পাগল দেখি, আমার খোজ করার আশা করছি কেমনে, দরজা তো আমি এই পাশ থেকে আটকিয়ে দিয়েছিলাম।

কিরে বাইরে এতো চ্যাচাম্যাচি শোনা যায় কেন??? একটু খেয়াল করে শুনি তো। মরে যাওয়ার পর থেকেই কানে কম শুনতে পাচ্ছি, কিছু শুনতে হলো অনেক বেশি কন্সেন্ট্রেশন করতে হচ্ছে।
ঐ তো আম্মুর গলা, দরজা খুলতে বলছে, কিন্তু আমি কেমনে খুলি, সেই ৩ ঘন্টা আগ থেকেই যে আমার নিথর দেহ ঝুলে আছে সেই ফ্যানের সাথে, আমি মরে যাওয়ার পরও আসলে সব কিছুই করতে পারছি দেখছি, শুনছি, সবার আশে পাশে ঘুরছি সব, শুধু কেউ আমার ফিলিংস টের পাচ্ছে না এই যা।

আরেহ আরেহ দরজা দেখি ভেঙ্গে ফেলল। আমাকে নামানোর কাজ চলছে, উফফ বাবা বাঁচা গেল, তোমরা তাহলে এতক্ষনে আসলা, নামাও নামাও তারাতারি বহুত কতক্ষন ঝুলে আছি।

সকাল ৭টা

সেই যে ফ্যান থেকে নামানোর পর কান্নাকাটি শুরু হইছে এখনো থামার নাম নাই, আরেহ বাপ কান্নাকাটি করার চেয়ে কেউ কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করো, তেলাওয়াত শুনতে বেশ লাগছিল। এর আগে পুলিশ এসে পোস্টমর্টেম না টোস্টমর্টেম কি জানি করতে চেয়েছিল, ভাগ্য ভালো ফ্যামিলি থেকে করতে দেয়া হয় নাই। কি কাটা ছেড়া করে বডিকে এক অবস্তা বানিয়ে ফেলে ডাক্তাররা যে নিজের বডি দেখেই নিজেরই ঘৃনা লাগে। ভালোই হইছে দেয় নাই করতে।

আম্মুটা বেশি কাদতেছে, উফফু কি করি। আমি আসলে প্রথম সুইসাইড করতে চাই নাই, কিন্তু কি আর করা যে রেসাল্ট করেছি, তাতে তো কাউকে মুখে দেখানোরও উপায় নেই। আর মানুষজনের অবস্তা দেখলে তো মনে হয় তারা বেচে আছেই মানুষের রেসাল্ট জানার জন্য, কারো রেসাল্ট জানতে না পারলে যেন সে মরে যাবে এমন অবস্তা। আর আত্মীয়স্বজনদের কথা তো আর নাই বললাম মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত কয় হাজার ফোন পাইছি খোদা মালুম। এই ছোট বাংলাদেশে এতো এতো ট্যালেন্ট স্টুডেন্টের ভিড়ে কই যায়গা হবে আমার??? তাই আর না পারতে সুইসাইড করেছিলাম, আমার মত একটা ছেলে সমাজ থেকে কমে গেলে কারোই কিছু আসে যাবে না, তাই এই সিদ্বান্ত নিয়েছিলাম।

এই তো দেখি হজুর সাহেব, এই বেটা আসার পর থেকেই ঢং করছে, আসছে সে মওতা বাড়িতে, ভাব দেখে মনে হচ্ছে আসছে মেজবানে। ওরে তিনি আমাকে গোসল করানোর ব্যাপারে কথা বলছেন। আরেহ এই ব্যাটা ফাজিল হজুর কি গাধা নাকি, আমি তো সুইসাইড করার আগেই গোসল করে নিছিলাম, কিন্তু এখন আবার গোসল করানোর কথা বলে কেন? কি বিশ্রী ব্যাপার স্যাপার এতোগুলো পুরুষ মানুষ আমাকে উলঙ্গ করে নাকি গোসল করাবে ধ্যাত, আমিও কথা বলতে পারতেছি না আর তারাও সুযোগ নিয়ে যা ইচ্ছা তা করতেছে।

নিজেদের ইচ্ছামত সিস্টেমে তারা আমাকে গোসল করালো, এখন খাটিয়াতে শুয়ে রেখেছে প্রায় ৫ মিনিট হলো। প্রচুর মানুষ আশেপাশে, চেনা জানা সবাই খাটিয়ার আশেপাশে কেন?? পুরো গুমোট বাধা পরিবেশ। এই মানুষগুলো মরা মানুষ দেখতে অন্য টাইপের ফিলিংস পায় মনে হয়। এতো মানুষ কেন।?? ভিড় মোটেইও ভালো লাগছে না।

সকাল ১০টা

বাপরে যতগুলো মানুষ!!!! এতো মানুষ হয় কেমনে জানাজাতে, এতো মানুষ আমি আশা করি নাই, আমাকে তো এতো মানুষ চিনত না, তারপরো এতো মানুষ!!!! খাটিয়াতে শুয়ে থাকা অবস্তায়ও অনেক মানুষ ছিল, কিন্তু তারা যে এখন জানাজাতেও থাকবে তা ভাবি নাই, যাই হোক ভালোই হলো অনেক মানুষ এসেছে।
সকাল সাড়ে ১০টা।
এইবার আমাকে দাফনের পালা, আরেহ আমাকে কবর দিবে এই জঘন্য স্থানে, ধুর এইটার কোন মানেই হয় না। এইরকম নোংরা যায়গা কেন তারা আমার কবর নির্বাচন করল কিছুই বুঝলাম না, কিরকম স্যাথস্যাথে পরিবেশ।

আমার লাশটা বেশ ভালোভাবেই তারা শুয়িয়ে দিয়েছে কবরের মধ্যে। এইবার উপরে বাশ দিবে, তারপর চাটাই তারপর মাটি। কিরে এরকম উপরে উঠে যাচ্ছি কেন !!! কিরে দাফন কাজই এখন সম্পন্ন হয় নাই এর আগেই এরকম এট্র‍্যাকশন অনুভব করছি যে!!!

আল্লাহ আল্লাহ আমি এখন মাটির থেকে প্রায় ৫০০ ফিট উপরে, আমার শরীরের উপর আমার আর কোন কন্ট্রোল নেই, সোজা উপরের দিকে উঠছি, কেন উঠছি কি কারনে উঠছি কিছুই জানি না, শুধু মনে হচ্ছে আমি একটা কোন এক এট্র‍্যাকশনের মাধ্যমে উপরে উঠে যাচ্ছি। চোখের জ্যোতিও কমে যাচ্ছে, আশেপাশের আওয়াজও আর পাচ্ছি না। ও বুঝচ্ছি মারা যাওয়ার পরের ফিলিংস মনে হয় এটাই। শেষবারে ফ্যামিলির সবার চেহারাটা একবার মনে করতে পারি কিনা দেখি। ঐ যে আম্মুর চেহারাটা একটু একটু, মনে পরছে আর কিছু মনে করতে পারছিনা, ছোট বোনটার চেহারাটা মনে করার চেষ্টা করছি, না আর হোলো না, পারছি না।

চারদিকে অন্ধকার, ঐ যে সামান্য সামান্য দেখতে পারছি পৃথিবীর কিছু অংশ। আমি এক অতল গহবরের ভেতর হারিয়ে যাচ্ছি।

আর কিছুক্ষন পরেই চোখের সীমানার বাহিরে চলে যাব, এর আগেই বলে নিলাম।

বিদায় হে পৃথিবী, তোমার থেকে বিদায় নিলাম, আর ফিরব না কখনো।

বিদায়। :)

0 comments:

Post a Comment