Thursday, August 29, 2013

দেশটা তো আমদেরই তাই না??? আমরাই তো বাংলাদেশ।।




আমরাই তো বাংলাদেশ! !

আহসান মিয়া দোকান বন্ধ করে বরাবর রাত এগারটায় । কমলাপুর রেলষ্টেশন লাগোয়া ফোন-ফ্লেক্সিলোডের দোকান তার । সারাদিনের ইনকামের টাকা প্যান্টের গোপন পকেটে ঢুকিয়ে মাথা নিচু করে বাসার দিকে হাঁটা দিল সে । এই সময়টা বড় চিন্তায় কাটে তাঁর । রাস্তাঘাটে অহরহ চুরি-ছিনতাই হয় ।চুরি- ডাকাতিকে ভীষণ ভয় পায় সে ।
 
আহসান মিয়ার বয়স তেইশ । এই বয়সে সংসারের কঠিন দায়িত্ব তার কাঁধে । আহসানের মা পঙ্গু, বাবা মারা গেছেন অনেক দিন আগে । একমাত্র বোনটা ইন্টারমিডিয়েট পড়ে । মাথা নিচু করে হনহন করে হাঁটার সময় ডানদিকের গলি থেকে আর্তনাদ শুনতে পায় আহসান  । একটু মাথা তুলে দেখতেই ঘটনা বুঝতে পারল সে ।
অন্ধকার গলির মুখেই এক মেয়ে ধস্তাধস্তি করছে দুই ছেলের সাথে । জায়গাটি এমনিতেই খারাপ ।
গত দু'মাসে তিনবার ছিনতাই হয়েছে ঠিক সেখানটাতেই । গত সপ্তাহে নাকি এক বৃদ্ধের লাশও পাওয়া গেছে গলির ভেতরে । রাত তেমন একটা বেশি হয় নি । বেশ রিক্সা-গাড়ি চলছে রাস্তায় ।  
মেয়েটির চিত্কার আরো অনেকেই শুনেছে । কেউ কেউ দাঁড়িয়ে দেখছে 'ছিনতাই কাহিনী'..
আহসান  মাথা নিচু করে বাসার দিকে দ্রুত পা বাড়ায় ।  রাস্তার কেউ এগিয়ে যাচ্ছে না মেয়েটির সাহায্যে ।
আহসান  মনে মনে ভাবে 'আমার কি দায় পড়েছে মেয়েটিকে বাঁচানোর'–  
কোন গ্যাঞ্জামের মধ্যে নেই সে ।

দশ গজের মতো সামনে গিয়ে কি মনে হতে আবার মাথা ঘুরিয়ে গলির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো সে ।
মুহুর্তের জন্য হলেও তার কাছে মনে হলো মেয়েটি তার আদরের বোন আছিয়া ।  আহসান  ভালো করে খেয়াল করলো এবার । নাহ! এইটা আছিয়া না, চোখের ঘোরে মেয়েটিকে আছিয়ার মতো লেগেছিল হয়তো ।
মেয়েটি এখনো ধস্তাধস্তি করছে মানুষ দু'জনের সাথে । বিদ্যুতের মতো তার মাথায় 'অদ্ভুত' এক চিন্তা ভর করলো ।

আল্লাহ না করুক, এই মেয়েটির জায়গায় আজ তার আদরের বোনটি থাকলে সে কি একইভাবে মাথা নিচু করে হেঁটে যেতে পারত? আহসান  ঘুরে দাঁড়ালো ।

হঠাত করেই আশেপাশের ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষদের পশু মনে হতে লাগলো আহসানের  
 
কিন্তু সে তো পশু না???  একজন মানুষও মেয়েটির সাহায্যে এগিয়ে যাচ্ছে না ।

তাই বলে সে নিজে কেন এগিয়ে যাবে না?

অন্যের নির্লিপ্ততা কিংবা কাপুরুষতার দায় নিতে রাজি নয় আহসান মিয়া । আশেপাশের মানুষগুলো একসময় বিস্ময় নিয়ে অপলক দেখলতেইশ বছরের যুবক আহসান মিয়া চোয়াল শক্ত করে দৌড়ে যাচ্ছে বিপন্ন মেয়েটিকে বাঁচাতে ।
তার ঠিক পেছনে লুঙ্গি পরনে আরেকজন মানুষ ।

পেছনে আরেকজন, সাথে আরো একজন, আরো একজন, অনেকে... একসময় সবাই!

বড় আনন্দের এই দৃশ্য আমাদের জন্য । বড় প্রাপ্তির এই দৃশ্য আমাদের জন্য । বড় গর্বের এই দৃশ্য আমাদের জন্য । পুরো দেশের জন্য!

দেশটা তো আহসান দের।।

দেশটা তো আমাদেরই, তাই না?


আমরাই তো বাংলাদেশ”!

2 comments: