Tuesday, June 4, 2013

"নিঝুম দ্বীপ থেকে অবুঝ অরণ্য"



অনেকদিন কোনো কিছু লিখি না, লিখতে ইচ্ছা করে কিন্তু সময় হয়ে উঠে না,

যাই হোক অনেকদিন পর কিছু একটা লিখলাম, লেখাটা আপনাদের ভালো লাগলেই, তা হবে আমার সার্থকতা ।।

সিএনজি টাতে খুব চাপাচাপি করে বসলাম । তিন জনের সিটে চারজন । তার মাঝে আমি একাই ছেলে । সুন্দরী ললনাদের পাশে বসলে বরাবরই নিজেকে খুব অসহায় লাগে । আজকেও এর ব্যতিক্রম নয় । বরং আজ অসহায়ের মাত্রা একটু বেশিই হচ্ছে।

ইচ্ছে করছে চলন্ত সিএনজি থেকেই লাফ মেরে পড়ে যাই ।

লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া আমার আবুল টাইপ মুখটা দেখে মেয়ে গুলো মিটিমিটি হেসেই যাচ্ছে ।
আমিও ওদের পাত্তা না দেওয়ার ভাব নিয়ে কানে এয়ারফোন গুজে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
তার আগে আড় চোখে মেয়ে তিনটাকে খুব নিঁখুত ভাবে দেখে নিলাম । আমার সাথে বসা মেয়েটাই মাশাল্লা সব থেকে বেশি সুন্দরী । প্রথম দেখাতেই চোখ বন্ধ করে যাদের প্রেম নিবেদন করা যায় সেও নিদ্বিধায় তাদের মাঝে একজন হতে পারে । মেয়েটি এখন আশেপাশের কোন কিছুর দিকে খেয়াল না করে এক মনে মোবাইল টিপে যাচ্ছে । বাটন টিপার স্টাইল দেখে অনুমান করলাম
ফেবুতে হয়তো কারো সাথে চ্যাট করছে । আমিও ফেবু ইউজ করি এটা বুঝানোর জন্য মোবাইল টা হাতে নিয়ে আলোর বেগে ফেবুতে ঢুকলাম । আড় চোখে আবার দেখতে গিয়ে দেখলাম মেয়েটিও আমার কান্ড কারখানা আড় চোখে দেখছে । তবে এতো লুকোচুরির মাঝেও মেয়েটির চোখের কোনে মন খারাপের
একটা চিহ্ন স্পষ্ট দেখতে পেলাম ।

ফেবুতে ঢুকেই দেখি তানিয়া অনলাইনে । একসাথে তিনটা মেসেজ পাঠিয়ে রেখেছে ।
পর পর তিন মেসেজ মানে ভীষণ রেগে আছে । আজ সারা দিন ওর কোনো খবর নেওয়া হয়নি সেই কারণেই হয়তো হবে । বুঝতে পারি না মেয়েটা কি আমার প্রেমে পড়ছে? প্রেমে পড়লে মেয়েরা অদ্বূত ভাবে কথায় কথায় রাগ করে । যা আজকাল তানিয়াও আমার সাথে করছে ।কিন্তু আমরা এখনো তো কেউ কাউকে দেখিইনি । এমনকি কেউ কারো ফোন নাম্বার টাও জানি না ।
তবে আমরা একই শহর ময়মনসিংহেই থাকি... ও অনেক বারই আমার সাথে দেখা করার কথা বলেছিল কিন্তু আমিই ওর সাথে দেখা করার আগ্রহ দেখাই না ।
শুধু চ্যাট করেই প্রেমে পড়ে যাবে এই জটিল সমীকরণের হিসেব টাও কিছুতে মেলাতে পারি না ।

পরপর অনেক গুলা মেসেজ দিলাম কিন্তু তানিয়ার রাগটা কিছুতেই
ভাঙ্গছে না। হঠাত্ মোটা মাথায় এক বুদ্ধি আসল । নারী নাকি নারীকেই হিংসে করে সব থেকে বেশি তাও যদি পছন্দের মানুষ নিয়ে হয় । তাই এই সুত্রটা কাজে লাগিয়ে রাগ ভাঙ্গানোর জন্য ওকে এগারো বারের মতো রিপ্লে দিলাম -জানিস, এখন আমি একটা সুন্দরী মেয়ের পাশে বসে আছি । মেয়েটাকে যতই দেখছি ততবারই প্রেমে পড়ছি । যা ভেবেছি তাই । এবার ঠিকই রিপ্লে আসল, -তুমি কি ঐ মেয়ের সাথে কথা বলছো । এখনো বলছি অন্য দিকে তাকাও । -না এখনো বলি নাই । তবে আপনার রাগ না কমলে আরো বেশি করে ওর
দিকে তাকাবো । চোখ দিয়ে ভেংছি কাটবো। -নিজে অন্যায় করে এখন আমাকেই ব্ল্যাক মেইল করা হচ্ছে। দাড়ান দেখাচ্ছি মজা ।

এরপর রিপ্লেতে অনেক গুলো ডিসুম ডিসুম এর ইমো এলো ।
তানির ১০০০ বোল্টের রাগটাও আস্তে আস্তে কমে 0বোল্টে চলে এলো ।
হঠাত্ কি মনে করে পাশে বসা মেয়েটির দিকে তাকালাম।
মেয়েটির ফর্সা মুখখানা মেঘলা হয়ে আছে ।
মন্দ লাগছে না । ফর্সা মুখের মেঘ রঙ আমার বরাবরই ভালো লাগে ।
অনুমান করলাম হয়তো কাছের কেউ কিছু বলেছে তাই এই অবস্হা । তানিকে এবার সৌজন্যমূলক মেসেজ দিলাম,
-কি করছো?
- সিএনজিতে । বাসায় যাচ্ছি।
-সাখে কে আছে?
-আমরা তিন বান্ধবী । আর কেউ না । তবে আমার পাশে একটা গোবর গনেশ
বসে আছে ।খুব ভাব নিচ্ছে । আমাদের দিকে ভালো করে তাকিয়েও দেখছে না ।
এবার আমার কান খাড়া হয়ে গেল । বুক আর পেট একসাথে মোচড় দিয়ে উঠল
। পাশে বসা মেয়েটার দিকে একটু এগিয়ে ওর মোবাইলটা দেখার
চেষ্টা করলাম ।
আমি টাশকি ত বাঁশকি ত । ওর ইনবক্সে আমার আইডি নেইম ।
আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না এই পরির মতো মেয়েটা তানি ।
কিছুক্ষণ বাকরুদ্ধ থেকে ওকে রিপ্লে দিলাম ।
-ছেলেটা দেখতে কেমন? তোর পছন্দ হইছে নাকি?
- আরে না । তবে দেখতে মন্দ না । আমার বান্ধবীর নাকি খুব পছন্দ হইছে ।

ছাই রংয়ের শার্ট আর চোখের চশমাটা খুব মানিয়েছে ।

নিজের শার্টের দিকে তাকিয়ে দেখলাম
হুম আমার টাও ছাই কালারের শার্ট ।
চশমা টা হাত দিয়ে দেখলাম না এটাও ঠিক জায়গাতেই আছে ।
এবার আমি পাশে বসা ওর দিকে চোখ বড়ো বড়ো করে ভয়ার্ত
দৃষ্টিতে তাকালাম ।
ও বোধ হয় ভয় পাচ্ছে । চোখে মুখে স্পষ্ট ভয়ের ছাপ ।
আমার খুব আনন্দ হচ্ছে ।
অদৃশ্য মানুষ হয়ে কাছের মানুষ গুলো কে ভয় দেখানোর
মাঝে যে এতো মজা তা এই প্রথম ঠের পেলাম ।
এবার ওর দিকে তাকিয়ে রোমিও টাইপের মুচকি একটা হাসি দিলাম ।
ও কপালে বিরক্তির ভাজ টেনে অন্য দিকে তাকিয়ে রইলো । ওর কাছ থেকে মেসেজ আসলো,
-জানিস ঐ গোবর গনেশ টা আমার দিকে কেমন করে জানি তাকাচ্ছে ।
আমার খুব বিরক্তি লাগছে ।
এবার আমি হাসি আর আটকাতে পারলাম না । একা একাই হেসে ফেললাম ।
ও আমার দিকে বিস্ময়ের চোখে বার বার তাকাচ্ছে । হয়তো আমাকে পাগল
ভাবছে । কিন্তু আমি হেসেই যাচ্ছি ।
সিএনজি ব্রীজের কাছাকাছি এসে গেছে । আমরা সিএনজি থেকে নামলাম
। যাওয়ার আগে ওকে বললাম, -ভালো, থাকুন মিস তানিয়া ।
এই পাগল সিএনজিতে বসেই আপনার প্রেমে পড়ে গেছে । ও কৌতুহল বিস্ময় ভয় লজ্জা সব কিছুকেই এক সাথে করে গোল গোল
চোখে আমায় জিজ্ঞাস করলো,
-আপনি আমার নাম জানলেন কিভাবে?
আমিও গোলগোল চোখে বললাম,
-না মানে, আপনার বইয়ের উপর তানিয়া নামটা দেখে ।

"যত্তো সব পাগল"

এই বলে ও আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল ।
আর আমি আনন্দ ভরা চোখে পৃথিবীর শ্রেষ্ট সুখি মানুষটির
মতো দাড়িয়ে থেকে ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম ।

"নিঝুম দ্বীপ থেকে অবুঝ অরণ্য"

>>> একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক


0 comments:

Post a Comment