Friday, August 17, 2012

আমার আমি... :)



 পুরো নাম আবরার হামিম সাজিদ।

একদম শেষ অথবা একদম প্রথম, কোন কিছুর মাঝামাঝি থাকা আমার বড় অপছন্দ ।

আমি স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়িত করার জন্য ।

একা থাকা ও বই পড়া আমার নেশা । ভালো লাগে রাস্তায় একা একা হাঁটতে , একা মুভি দেখতে অথবা প্রিয় কোন বই বা গানে হারিয়ে যেতে । খুব বিরক্ত লাগে পাছে কেউ কথা বললে, বোঝেনা আমার সামনেও বললেও কোন হ্মতির আশা নেই । আমার সবচেয়ে বড় বন্ধু আমার বই গুলো । পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী ভালো লাগে জ্যোত্স্না কে । সবাই চঞ্চল বললেও আমার কাছে আমি ধীর । আগ বাড়িয়ে কিছু করতে যাওয়ার বদনাম আছে, যদিও পরে সুফল পাই আমি ।

আমার কথাগুলো কঠিন, নিষ্ঠুর অবিশ্বাস্য অথবা হাস্যকর হলেও সেগুলো সত্য। আর প্রথম প্রথম সেটা সবাই মিথ্যা মনে করলেও একসময় সত্য প্রকাশ পায়। যুক্তি আমার ধর্ম। আর নতুন কিছু শেখার আশায় পরাজিত হতেও দ্বিধা নেই আমার।

যতই দিন যাচ্ছে ততই নিজের নতুন অঙ্গতার দিক উম্মোচিত হচ্ছে যদিও এর সাথে শিখছিও বটে। জীবনে সবচেয়ে বেশী বকা খাইছি হাসার জন্য। হা হা হা হা  ! :D

গ্রাম আমার খুব ভালো লাগে আর গ্রামের মানুষ গুলোকেও। যদিও ভালো লাগেনা তাদের সংঙ্কার । সবুজ প্রকৃতিকে প্রচন্ড ভালবাসি আমি, কেমন যেন একটা নাড়ির টান অনুভব করি। পুরাতুন বাড়িগুলো আমাকে খুব কাছে ডাকে। তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মনে হয় যেন তারা আমাকে তাদের সঙ্গে একটি রাত কাটানোর আকুতি করে।

মনের ঘরে যখন যা কিছুর উদ্ভব হয় তখন আমি তা নিয়েই ব্যাস্ত হয়ে পড়ি। 'ভবঘুরে' শব্দটা আমার রক্তে মেশানো। সেটার লাফালাফি ইদানিং বেশ ভালোভাবেই টের পাচ্ছি। কিছু অনাথ গল্প ও কবিতার আশ্রয়দাতা আমি। তারা আমাকে আশ্রয় করে জন্ম নেয় মাত্র। অতঃপর তারা আবার অনাথ হয়ে প্রতিহ্মা করে।

আমি সংস্কার এর হাড়ি ভাঙ্গতে চাই। নিজেরটা ভেঙ্গেছি অপরের ভাঙ্গার প্রতিহ্মায় আছি। বিত্ত আমার চোখের বালি। আমি নিজের মধ্যের 'অভাব বোধ' কে ভালোবাসি।

শিশুরা আমার একটু বেশিই প্রিয়। আর গাছগাছালি বা পশুপাখি প্রীতিটাও একটু বেশীই আমার।প্রকৃতি আমায় খুব টানে।
ভালো মন্দ নিয়েই মানুষ। আর আমিও ব্যাতিক্রম নই। হয়ত আমার মন্দ গুনও বেশী বৈকি কম নয়। হয়ত একটু বেশীই অভিমানী ও প্রিয়জনদের উপর বেশিই অধিকার ফলাই আমি।

এ আমার ঔদ্ধতা নই এ আমার শৃঙ্খল। সত্যকে গোপণ করার স্বভাবটা আমার দুচোখের বিষ। তবে অন্যের গোপনীয়তাকে রহ্মা ও সংরহ্মণ দুটোয় কড়া ভাবে পালন করি।

আমি মনে করিনা কাঁটাতারের বেড়াগুলো মানুষকে আলাদা করতে পারে যেমনটি পারেনা সাংস্কৃতি ও শিল্পকে তাইতো আমি সাংস্কৃতি ও শিল্পতে সর্বজনীন।

ভালোলাগে যেটা সেটাই অঙ্গে ধারণ করা আমার ধর্ম।

ঘৃন্না কি ? আমি আমার অভিধান থেকে এ কথাটাকে মুক্তি দিয়েছি।
এই কোলাহল একদম ভাল লাগেনা তাই সময় পেলেই বন্ধুদের নিয়ে ছুটে যাই দুরে কোথাও নির্জনে যেখানে ব্যস্ততা নেই, নেই লোক দেখানো সুখি থাকার অভিনয়, যা আছে সবই প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট। দারুণ আড্ডাবাজ ছেলে আমি একবার আড্ডায় মজে গেলে সময় জ্ঞান থাকে না তাই এই ব্যাস্ত জীবনে আড্ডা দেয়া হয় না সেভাবে যেভাবে আড্ডা দেয়া আমার স্বভাব। দিন যায় রাত আসে আপন নিয়মে শুধু আসেনা সেই আড্ডা মুখর দিন গুলো। ব্যস্ত শহরের প্রতিটি ধুলিকনাও সমান ব্যস্ততার মাঝেই দিন কাটায়, এ বাড়ীর পাচিলে নয়তো কোন আট্রালিকার গ্রীলে ফাঁকে বসে থাকে অন্য কোথাও উড়ে যাবার জন্য। শান্ত নদীর বুকে উড়ে বেড়ানো চিল গুলো সর্বদা শান্তই থাকে, ঝাক বেঁধে উড়ে বেড়ায় আত্মতৃপ্তি নিয়ে নীড়ে ফেরে। ওদের সবারই কিছু কিছু চাওয়া থাকে, থাকে প্রাপ্তির সম্মিলনও, কিন্তু কিছু কিছু মানুষের জীবন?? কিঞ্চিৎ স্বপ্ন দেখতেও তাদের ভয়, পাছে স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা তারা করে সব সময়। দিনের শেষে ফিরে যাবার মত একটা নীড়ও তাদের নেই, আমি সেই দলেরই একজন..............

আমিতো সামান্য একজন মানুষ, শহরের ধুলিকণা কিংবা শঙ্খচিল হতে পারিনা। কাউকে স্বপ্ন দেখাতে জানিনা, জানিনা কিভাবে স্বপ্ন দেখতে হয়। জানিনা কিভাবে ভালবাসতে হয়। আমার আনুভুতিগুলো ভোতা হয়ে গেছে। তাইতো সারাদিন যন্ত্র নিয়ে পড়ে থাকি, যন্ত্র হওয়ার সাধানায় মত্ত আমি। যন্ত্র দিয়েই একেঁ চলি জীবনের প্রতিচ্ছবি, প্রতিটি জীবনেই আলাদা একটা প্যাটার্ণ থাকে, নানা রংয়ের সমাহারে ভেক্টর আকাঁ থাকে মনের গহীনে, পাজরের মাঝে সুপ্ত করে লুকানো থাকে এক ছবি হাজারো pixel দিযে গঠিত সে ছবি। সময়ের স্রোতেই হোক কিংবা বাস্তবতার কষাঘাতেই হোক ধিরে ধীরে সব কিছুই Bluer হয়ে যাচ্ছে হৃদয়ের মনিটরে। এত কিছুর পরেও একেঁ চলি জীবনের জলছবি; স্বপ্নের কালো রংয়ে।।


লেখাঃ ১৭ই আগস্ট ২০১২

>>> একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক।।

0 comments:

Post a Comment